সিসি লোন কী, কেন ও কীভাবে?

Share Now:

ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে ব্যাংক থেকে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে কিন্তু বর্তমানে একই পরিসেবা গ্রাহকগণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও পাওয়া সম্ভব। একে ক্যাশ ক্রেডিট বা সিসি লোন বলে থাকে।  ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীগণ ঋণ নিতে পারবেন ব্যাংক থেকে তবে এক্ষেত্রে অতীতের ক্রেডিট স্কোর, ঋণ শোধ করার ক্ষমতা এবং কার্ডের ক্রেডিট সীমার উপরে ঋণ পাওয়াটা নির্ভর করে থাকে। ব্যক্তিগত ঋনের তুলনায় ক্যাশ ক্রেডিট বা সিসি লোন তুলনামুলকভাবে ভিন্নতা রয়েছে এবং অনেক্ষেত্রে এটি বেশি উপকারী। 

সিসি ঋণ কি?

যেখানে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট একাউন্টের মাধ্যমে বিশেষ কোন জামানতের বি্পরীতে কোন পন্য বা সেবা উৎপন্ন বা বাজারজাত করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋন পেয়ে থাকে তাই হচ্ছে সিসি ঋন । একটা সাধারন কারেন্ট একাউন্টের মতই সিসি একাউন্ট পরিচালিত হয়। ব্যাংক গ্রাহককে উক্ত একাউন্টে একটা নির্দিষ্ট ঋন্ সীমা দিয়ে থাকে এবং গ্রাহক সেই লিমিট বা সীমার বাইরে ঋণ নিতে পারবে না।। এই ধরনের ঋন চাহিবা মাত্র ফে্রত দিতে হবে- এই প্রকৃতির। তাই এ ধরনের ঋনকে Demand Deposit এর কাউন্টার দিক বলে।

সিসি ঋণ গ্রহণের জন্য ব্যবসায়ীকে জামানত বা সুরক্ষা জমা দিতে হবে যেখানে জমা দেওয়া জামানত স্থায়ী সম্পদ, স্টক-ইন-ট্রেড, কাঁচামাল, সমাপ্ত পণ্য, সরঞ্জাম, সম্পত্তি ইত্যাদি। 

বিজনেস সিসি ঋণ সংক্রান্ত:

  1. বিজনেস সিসি ঋণের ক্ষেত্রে ০.৫% হারে মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হবে । যদি কোন গ্রাহক মাসিক হারে পরিশোধ করতে না পরেন তবে ৩ মাস অন্তর ১.৫% হারে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে ।
  2. সুদের টাকা তিন মাস পর পর সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সমন্বয় করা হবে প্রত্যেকবার ঋণ ফেরতের সময় সুদ আদায় না করে । যদি ঋণ গ্রহীতা চাই তাহলে প্রতিবারে সুদ প্রদান করতে পারবেন।
  3. সঞ্চয়ী হিসেবে অকশ্যই টাকা থাকতে হবে সদস্যকে খেলাপী হিসেবে গন্য করা হবে এবং সুদের অর্ধেক জরিমানা গ্রহণ করা হবে এবং লোনকে ডেবিট করা হবে ।
  4. সিসি ঋণ অনুমোদন করা হবে মূলত সিলিং ভিত্তিক ।
  5. গৃহীত সিসি ঋণের ৩ গুণ সমপরিমাণ লেনদেন করলে পরবর্তী সিলিং প্রাপ্র্য হবেন তবে ১ বৎসরের পূর্বে না।
  6. যদি মাসিক কোনো লেনদেন না থাকে তাহলে পরবর্তী সিসি লোন বিবেচনা করা হবে না।
  7. সিসি লোনের লেনদেন করতে হবে এসটিডি হিসাব খুলে ।

জেনারেল সিসি ঋণ সংক্রান্ত :

  1. জেনারেল সিসি ঋণের ক্ষেত্রে  মাসিক কিস্তির পরিমাণ হচ্ছে ০.৫%।
  2. কিস্তির টাকা সঞ্চয়ী হিসেব থেকেও সমন্বয় করা যাবে। সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা না থাকলে লোনকে ডেবিট করা হবে এবং সদস্যকে খেলাপী হিসেবে গন্য করা হবে এবং সুদের অর্ধেক জরিমানা গ্রহণ করা হবে।
  3. সিসি ঋণ সিলিং ভিত্তিক অনুমোদন করা হবে।
  4. যদি গ্রাহক গৃহীত সিসি ঋণের ৩ গুণ সমপরিমাণ লেনদেন করেন তাহলে পরবর্তী সিলিং প্রাপ্র্য হবেন  তবে তা ১ বৎসরের পূর্বে না।
  5. মাসিক কোন লেনদেন না থাকলে পরবর্তী সিসি লোন বিবেচনা করা হবে না।
  6. এসটিডি হিসাব খুলে সিসি লোনের লেনদেন করতে হবে।

সিসি লোন সেবা কারা নিয়ে থাকছে?: কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অধীনে যারা বৈধভাবে ব্যবসা করেন মূলত তারাই সিসি লোনের গ্রাহক।

সিসি লোন নেওয়ার জন্য Eligibility:

  1. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  2. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি থাকতে হবে।
  3. আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ফটোকপি থাকতে হবে।
  4. একজন উদ্যোক্তাকে অবশ্যই কমপক্ষে ৩ মাসের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা সহ বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
  5. ঋণ পরিশোধের জন্য অনুকূল ক্যাশ ফ্লো থাকতে হবে।
  6. সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা হিসাব থাকতে হবে।
  7. টিন সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড এবং সিসি লোন সম্পর্কিত নিকটস্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের অবস্থান জানতে এবং বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা স্কিমের ব্যাপারে জানতে ভিসিট করতে পারেন সংযোগইউ ওয়েবসাইটে। বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সেবা ও সুবিধা গ্রাহকদের কাছে অনলাইনে সহজেই পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সংযোগইউ প্লাটফর্মটি।  বিস্তারিত জানতেঃ shongjogyou.com

Share Now: