এসএমই লোন কি ও কীভাবে

Share Now:

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ গুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ খাতটি শ্রমঘন ও উৎপাদন সময়কাল স্বল্প হওয়ায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অবদান রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান হহ্ছে 25-30% । দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ করে চরম দারিদ্য ও বেকারত্ব নির্মূল করা এবং নারী পুরুষের মধ্যে সমতা ও নারী ক্ষমতায়নে এসএমই খাত বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এশিয়ার বেশ কিছু সমৃদ্ধশালী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, আয় ষৈম্য কমিয়ে আনা দারিদ্য বিমোচন প্রভৃতি লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশেও এসএমই খাতের উন্নয়নকে শিল্প উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসেবে গ্রহন করে এ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    

এসএমই লোন কি?

এসএমই বলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্দ্যোগকে বুঝায়। ব্যবসায়িক সম্প্রসারনে প্রয়োজনীয় একটি অসুরক্ষিত জামানতবিহীন মাসিক কিস্তি ভিত্তিক ঋণ সুবিধাই হল এসএমই ঋণ। অনেক সময় উদ্যোক্তরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাস্তব জ্ঞান এবং ব্যাংকের নিয়ম-কানুন সর্ম্পকে অজ্ঞতার কারনে অহেতুক অসুবিধার সম্মুখীন হয়। সম্প্রতি দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শিল্প-উদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য লোন ও আর্থিক সমৃদ্ধি প্রদানের জন্য এসএমই ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। অনেক ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের পৃথক সেল বা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে।

এসএমই লোন কারা দিচ্ছে ?

অনেক সময় উদ্যোক্তরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রাপ্তি ক্ষেত্রে বাস্তব জ্ঞান এবং ব্যাংকের নিয়ম-কানুন সর্ম্পকে অজ্ঞতার কারনে অহেতুক অসুবিধার সম্মুখীন হয়।বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শিল্পোদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের লোন ও অর্থায়নের সুবিধা প্রদানের জন্য এসএমই ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশের বত্যমান অর্থবাজারে এসএমই খাতে অর্থায়নে যে সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই ব্যাংকিং শুরু করেছে সেগুলো হল- ব্র্যাক ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সোনালি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, পূবালি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক সহ আরো অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই লোন দিচ্ছে। 

অধিকাংশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ঋণের পরিমান পল্লী এলাকায় সর্বনিম্ন প্রায় ৩০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ লক্ষ টাকা হয়ে থাকে। তবে নগর এলাকায় সর্বনিম্ন প্রায় ৩০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ লক্ষ টাকা হয়ে থাকে। প্রথম ঋণের ক্ষেত্রে ১,০০,০০০ টাকার বেশি বিতরন করা হয় না।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১ বছর থেকে ৫ বছর হয়ে থকে। কবে সাধারনত কত পরিমান ঋণ নেওয়া হয়েছে তার উপর নির্ভর করে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কমতে বা বাড়তে পারে।

 এসএমই লোন কারা নিচ্ছে ?

এই ঋনের সুবিধাটি বিষেশত বেকার এবং ক্ষুদ্র বা মঝারি ব্যবসার উদ্যোগতাদের ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এছাড়া ব্যাংক ব্যাংকার গ্রাহক সর্ম্পকের ভিত্তিতে ঋণ দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাংকের সাথে যেসব গ্রাহকের বা উদ্যোগতার সম্পর্ক ভাল তারা সহজেই ঋণ নিতে পারে। প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষন বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ঋণ পেয়ে থাকেন। ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা অর্থাৎ মাসিক বা বার্ষিক নির্দিষ্ট আয় থাকতে হবে  এবং আর্থিক লেনদেনে কোন রকম জটিলতা না থাকলে সেসকল ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাগন এই ঋণ পেয়ে থাকেন।

এসএমই লোন পেতে যে সকল উপযোগিতা/ Eligibility এর প্রয়োজন

নিম্নে এসএমই লোন পেতে যে সকল উপযোগিতা/ Eligibility এর প্রয়োজন তা বর্ণিত হল-

  1. আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেষের নাগরিক হতে হবে। 
  2. আবেদনকারী ও গ্যারেন্টারের সরকারি জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।
  3. যে ব্যাংক থেকে লোন নিবেন সে ব্যাংকের ফরম সংগ্রহকরন এবং তা যথাযথভাবে পূরন করতে হবে।
  4. হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি থাকতে হবে।
  5. ব্যবসায়ের টিন নম্বর থাকতে হবে।
  6. যেখানে শিল্পটি বিদ্যমান / প্রতিষ্ঠা করা হবে সে সম্পত্তির বর্তমান মূল্যের সনদপত্র থাকতে হবে।
  7. যেখানে শিল্পটি বিদ্যমান / প্রতিষ্ঠা করা হবে সে সম্পত্তি বন্ধক নেয়া হলে তার বৈধ চুক্তিনামা থাকতে হবে।
  8. ব্যাংকের হিসাব নং ও জামানত স্হিতি থাকতে হবে।
  9. পৌরসভার বাসিন্দা হলে কমিশনারের সনদ, স্হানীয় পর্যোয়ের হলে চেয়ারম্যান অথবা উপজেলা নির্বাহীর সনদ থাকতে হবে। 
  10. যদি প্রকল্পটি লিমিটেড কোম্পানি হয় তাহলে মেমেরেন্ডাম এবং আর্টিকেল অব এসোসিয়েশনের কপি আর যদি অংশীদারী প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে  চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি থাকতে হবে।
  11. প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় ঋণ গ্রহনে ইচ্ছুক হলে ব্যবসায়ের 1 বছরের আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাব বিবরনী অবশ্যই দেখাতে হবে।
  12. দুইজন উপযুক্ত গ্যারেন্টারের সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। 
  13. প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পূর্বে কোন ব্যাংক থেকে আবেদনকারীর যদি কোন ঋণ থাকে তাহলে তার সিআইবি রিপোর্ট দেখাতে হবে।
  14. টিন সার্টিফিকেট আপডেট থাকতে হবে।
  15. আবেদনকারী ও গ্যারেন্টারের সদ্য তোলা রঙিন ফটোগ্রাফ থাকতে হবে।
  16. ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি থাকতে হবে।
  17. উপযুক্ত জামিনদার থাকতে হবে।
  18. অন্যান্য ইনকাম সংক্রান্ত ডকুমেন্ট (যদি থাকে)।

উপরোক্ত সকল  তথ্য প্রদান করার পরে ব্যাংক আপনার তথ্যসমূহ যাচাই বাছাই করার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্যদিবসের সময় নিবে। এর পরে সিদ্ধান্ত নিবে আপনাকে লোন দেয়া সম্ভব কি না। এই ধরনের লোন সম্পর্কিত সকল তথ্যসমূহ পেতে ভিসিট করুন সংযোগইউ প্লাটফর্মে। এই প্লাটফর্মে এসএমই সম্পর্কিত সকল তথ্য পেয়ে যাবেন এবং এর পাশাপাশি আপনার নিকটস্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সকল স্কীম এবং সার্ভিসের ব্যাপারে অবগত হতে পারবেন। তাই আজই ভিসিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটে। বিস্তারিতঃ shongjogyou.com

Share Now: