উদ্যোক্তা ঋণ কি ও কিভাবে কাজ করে

Share Now:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবসা উদ্যোক্তার উদ্যোগের একটা মূল অংশ। তবে একটি ব্যবসা শুরু করা থেকে এর সকল কার্যক্রম চালানোর জন্য একজন উদ্যোক্তার অর্থের যোগান দিতেই হয়। এর জন্য উদ্যোক্তাকে ব্যাংক বা অন্য যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। তবে এক্ষেত্রে অনেকের ধারণা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ঋণ পেতে হলে অনেক ধরনের ঝামেলা এবং জটিলতার হতে পারে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা পরিচালোনার জন্য যেমন নিয়মনীতি অনুসরন করতে হয় তেমনি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্ধতিগতভাবে তাদের নিজেস্ব নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়। এছাড়াও অনেক সময় উদ্যোক্তরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম কানুন ও বাস্তব জ্ঞান সর্ম্পকে সঠিক ধারনা না থাকার কারনে অহেতুক অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়। আবার অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না উদ্যোক্তা লোনের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে কিভাবে আবেদন করবেন!! 

উদ্যোক্তা লোন কি?

কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে আত্নকর্ম ও অন্যের কর্মসংস্থান তৈরীর প্রকল্প এবং তা বাস্তবে রূপ দেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ। আর যিনি এ কাজটির প্রতিষ্ঠাতা তিনি হচ্ছেন একজন উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আইডিয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অর্থের। এ অর্থের যোগান পাওয়া যাবে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। বিনা জামানতে ঋণ পাওয়া যাবে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। স্বল্প সুদের ঋণ সহজ শর্তে পাওয়া সম্ভব মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। তবে এক্ষেত্রে মোট খরচের মাত্র ২০ শতাংশ উদ্যোক্তাকে বহন করতে হবে নতুন উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য; বাকি ৮০ শতাংশ খরচে  ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যাবে।চ

উদ্যোক্তা লোন কারা দিচ্ছে?

দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শিল্প উদ্যোক্তা ঋণ ও অর্থায়নের সুবিধার ক্ষেত্রে এসএমই ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক সেল / ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে অনেক ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগে যে সমস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই ব্যাংকিং শুরু করেছে তাদের তালিকা নিম্নরূপ- ব্র্যাক ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক, মিচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড সহ আরো অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসএমই(SME) খাতে এসব ব্যাংক জামানতবিহীন ঋণ চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিষেশ সুবিধা রাখা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করেছে। এ ব্যাপারে এসএমই ফাউন্ডেশনের এডভাইজরি সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারেন।

উদ্যোক্তা লোন কারা নিচ্ছে?

সাধারনত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্দ্যোক্তাগণ এই ঋণ নিয়ে থাকে। তাছাড়া ব্যাংক ব্যাংকার গ্রাহক সর্ম্পকের ভিত্তিতে ঋণ দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাংকের সাথে যেসব গ্রাহকের সম্পর্ক ভাল তারা সহজেই ঋণ নিতে পারে। প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষন বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ঋণ পেয়ে থাকেন। ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা অর্থাৎ মাসিক বা বার্ষিক নির্দিষ্ট আয় থাকতে হবে  এবং আর্থিক লেনদেনে কোন রকম জটিলতা না থাকলে সেসকল ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাগন এই ঋণ পেয়ে থাকেন।

উদ্যোক্তা লোন নেওয়ার জন্য Eligibility/উপযোগিতা:

উদ্যোক্তা লোন নেওয়ার জন্য যে সকল Eligibility / উপযোগিতার প্রয়োজন তা নিম্নে বর্নিত হল- 

  1. প্রতিটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের ঋণ ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প দলিল তৈরী করতে হবে।। প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় কাগজ ও দলিল পত্রাদিসহ প্রকল্প ব্যাংকে দাখিল করতে হবে। 
  2. যখন কোনো ব্যবসায়ী যৌক্তিক ভাবে মনে করেন ব্যবসায়ের উন্নতির জন্য তার ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন তখন তিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বরাবরে প্রয়োজনীয় বিবরন সম্বলিত দরখাস্থ পেশ করবেন।
  3. পূর্বের কোন গৃহীত ঋণ থাকলে তার সিআইবি রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।
  4. লিমিটেড বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ক্ষেত্রে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্তনামা ও যারা ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা  করবেন তাদের পূর্ণ নাম-ঠিকানা সহকারে গৃহীত সিদ্ধান্তের কপি।
  5. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

যা যা কাগজপ্ত্র প্রয়োজন/ যা যা ডকুমেন্টস সমূহ দরকার পড়বে :     

  1. যে ব্যাংক থেকে ঋণ নিবেন সে ব্যাংকের নিজস্ব ফরম সংগ্রহকরন এবং তা যথাযথভাবে পূরন করতে হবে।
  2. জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি থাকতে হবে।
  3. 2 কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  4. ইউটিলিটি বিল যেমন ইলেকট্রিক বিল/ গ্যাস বিল / ওয়াসা বিলের ফটোকপি থাকতে হবে। 
  5. হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি।
  6. ব্যবসায়ের টিন নম্বর
  7. লিমিটেড বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলে বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের রেজুলেশন কপি অর্থাৎ ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্তসহ কোন কোন ব্যক্তি ঐ ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে থাকবেন তাদের নাম উল্লেখসহ গৃহীত সিদ্ধান্তের কপি। 
  8. সার্টিফাইড Join Stock থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র।
  9. সনাক্তকারী হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য ঐ ব্যাংকের অন্য কোন অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কর্তৃক আপনার ছবি ও আবেদন পত্রে স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে ।
  10. সম্পত্তির বর্তমান ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট (যেখানে শিল্পটি বিদ্যমান / প্রতিষ্ঠা করা হবে)
  11. সম্পত্তি বন্ধক নেওয়া হলে তার বৈধ চুক্তিনামা  (যেখানে শিল্পটি বিদ্যমান / প্রতিষ্ঠা করা হবে)
  12. 2 জন উপযুক্ত গ্যারেন্টারের সনদ প্রদানের প্রয়োজন হবে।

ব্যবসায় ঋণ একটি অপরিহার্য অংশ ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন করে ব্যবসা শুরু করার জন্য। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ঋণের তালিকা দেখে যাচাই বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ রইলো। আপনার নিকটস্থ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের ব্যবসায় ঋণ সম্পর্কিত ধারণা দিতেই চলে এসেছে সংযোগইউ প্লাটফর্মটি। আমাদের মাধ্যমে আপনি আপনার নিকটস্থ সকল প্রকার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিস যাচাই বাছাই করে আবেদন করতে পারবেন অনলাইনের মাধ্যমেই।   অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পারবে সহজেই তাদের সার্ভিসটি  সঠিক ‍ও উপযুক্ত গ্রাহকের কাছে পৌছে দিতে। shongjogyou.com

Share Now: